কাজী আবুল মস্‌উদ বদরুন নাহার বুয়ে জান্নাত মাদ্রাসা

আমাদের সম্পর্কে

প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি

আমাদের যাত্রা

ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট

২০০১ সালে বালুভরা, সিংড়া, নাটোরের একটি নিভৃত পল্লীতে যাত্রা শুরু করে কাজী আবুল মস্‌উদ বদরুন নাহার বুয়ে জান্নাত কওমী মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা। প্রতিষ্ঠাতাদের একটাই স্বপ্ন ছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে দ্বীন ও দুনিয়ার সুষম শিক্ষায় গড়ে উঠবে আগামী দিনের আদর্শ মা ও বোনেরা।

সীমিত সামর্থ্য ও হাতে গোনা কয়েকজন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও, আল্লাহর অশেষ রহমত এবং দানশীল ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি আজ নূরানী থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম, আবাসিক হোস্টেল ও একটি সক্রিয় এতিমখানা বিভাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণরূপে জনসাধারণের দান-সাদাকা ও ওয়াকফের উপর নির্ভরশীল একটি অলাভজনক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে, যেখানে অসহায় ও এতিম শিশুদের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার প্রতিষ্ঠান বহন করে থাকে।

আমাদের অভিমুখ

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ পরিচালিত হয়।

আমাদের লক্ষ্য

কুরআন, হাদিস ও ইসলামি জ্ঞানের সঠিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিটি ছাত্রীকে ইলম ও আমলে পরিপূর্ণ একজন আদর্শ মুসলিমা হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে তারা নিজ পরিবার ও সমাজে দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দিতে পারে।

আমাদের উদ্দেশ্য

নিরাপদ, শালীন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অভিজ্ঞ শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে একটি মানসম্পন্ন কওমী মহিলা মাদ্রাসা গড়ে তোলা এবং অসহায় ও এতিম শিশুদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, স্নেহময় আশ্রয়স্থল নিশ্চিত করা।

যা আমাদের পরিচালিত করে

আমাদের মূলনীতি

ইলম ও আমলের সমন্বয়

কুরআন-হাদিসের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তা বাস্তব জীবনে চর্চার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে শিক্ষা শুধু জ্ঞান নয়, চরিত্রেও প্রতিফলিত হয়।

নিরাপত্তা ও শালীনতা

সম্পূর্ণ পর্দাবেষ্টিত, তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পরিবেশে প্রতিটি ছাত্রীর শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা হয়।

চারিত্রিক গঠন

আদব-আখলাক, নম্রতা ও নৈতিকতার শিক্ষা পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ — প্রতিদিনের রুটিনে এর চর্চা নিশ্চিত করা হয়।

অভিভাবকসুলভ যত্ন

প্রতিটি ছাত্রী ও এতিম শিশুকে নিজ সন্তানের মতো স্নেহ-মমতায় বড় করে তোলাই আমাদের শিক্ষিকা ও কর্মীদের অঙ্গীকার।

জবাবদিহিতা

দাতাদের প্রতিটি দান-সাদাকা সততার সাথে যথাযথ খাতে ব্যয় করা হয় এবং হিসাব স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

সমাজের সাথে সংযোগ

স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ছাত্রীদের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত রাখা হয়।

মুহতামিমের বাণী

প্রতিটি ছাত্রী যেন হয়ে ওঠে ইলম ও চরিত্রের এক অনন্য দৃষ্টান্ত

“আসসালামু আলাইকুম। এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পেছনে আমাদের কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না — ছিল শুধু একটি স্বপ্ন: এমন একদল মা ও বোন তৈরি করা, যারা কুরআন-হাদিসের জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে নিজেদের পরিবার, সন্তান ও সমাজকে দ্বীনের পথে পরিচালিত করবে। পাশাপাশি যেসব শিশু পিতৃহীন ও অসহায়, তাদের জন্য আমরা একটি নিরাপদ আশ্রয় ও পরিবারের বিকল্প হয়ে উঠতে চেয়েছি। এই দীর্ঘ পথচলায় আমাদের শিক্ষিকা, কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আপনাদের দোয়া ও দান-সাদাকাই আমাদের একমাত্র পুঁজি। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই খেদমত কবুল করুন এবং আরও বিস্তৃত করার তাওফিক দান করুন — আমীন।”

৪৩০+

শিক্ষার্থী

২৬+

বছরের অভিজ্ঞতা

শিক্ষা বিভাগ

৩০+

শিক্ষক
আবাসিক পরিবেশ

সুযোগ-সুবিধাসমূহ

আবাসিক ছাত্রী ও এতিমখানার শিশুদের জন্য নিশ্চিত করা মৌলিক সুবিধা।

আবাসিক হোস্টেল

নিরাপদ ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত থাকার ব্যবস্থা, যেখানে ছাত্রীরা পরিবারের মতো পরিবেশ পায়।

পাঠাগার

কুরআন-হাদিস ও ইসলামি সাহিত্যে সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার, যা জ্ঞানার্জনে সহায়ক।

স্বাস্থ্যসেবা

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।

খাবার ব্যবস্থা

আবাসিক ছাত্রী ও এতিমখানার শিশুদের জন্য পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ করা হয়।

আপনার কন্যাকে ভর্তি করাতে চান?

ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন